ভয়ংকর ইন্দোনেশিয়ার লোককথা


বাংলা লোককথায় কত ভূত পেত্নী আর রাক্ষস খোক্কসের গল্প শুনেছেন ছোট বেলায়। এগুলা যেন অলংকৃত করে রেখেছে আমাদের লোকশিল্পকে। ঠিক এমনই ভাবে বিভিন্ন দেশের কৃষ্টিকালচারে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গল্পকথা। এর আগে আপনাদের জানিয়েছিলাম জাপানের লোককথা, আজ আপনাদের শুনাবো ইন্দোনেশিয়ার প্রচলিত কয়েকটি গল্পকথা। যা শুনে আপনার শরীরের সব ক'টি লোপ দাঁড়িয়ে যেতে পারে। তাহলে চলুন জেনে নেই জাপানে প্রচলিত গল্পকথা গুলি,


Pocong:
মারা যাবার পরে, কবর দেবার সময় মৃত দেহকে সাদা কাপর দিয়ে মুড়িয়ে তার মাথার উপর একটা গিট আর পায়ের কাছে একটা গিট দেওয়া হয়। আর কবর দেবার পরে তারা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী কবর থেকে বেরিয়ে আসতে পারে পার্থিব দুনিয়ায়। যেহেতু তাদের হাত পা বাঁধা থাকে তাই তারা লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। এদের চেহারা অনেক সময় সাদা, গলিত বা অনেক সময় মাংস বাদে শুধু কঙ্কালও থাকতে পারে। এদের এরকম ফিরে আসার কারন হচ্ছে, তাদের অসম্পূর্ন কাজ। আর সেই কাজের জন্যই এরা বাইরে বেরিয়ে আসে। যেহেতু এদের হাত বাঁধা থাকে তাই এরা অনেক সময় আপনার দরজায় ধাক্কা দিয়ে থাকে তাদের মাথা দিয়ে।

বাহাই ধর্ম


বাহাউল্লাহ'র সমাধি মন্দির
বাহাই ধর্ম বা বাহাই বিশ্বাস হচ্ছে বাহাউল্লাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একেশ্বরবাদী একটি ধর্ম বা বিশ্বাস। ঊনবিংশ শতাব্দীতে পারস্যে এই ধর্মের উৎপত্তি হয়। মূলত মানবজাতির আত্মিক ঐক্য হচ্ছে এই ধর্মের মূল ভিত্তি। বিশ্বে বর্তমানে ২০০এর বেশি দেশ এবং অঞ্চলে এই ধর্মের আনুমানিক প্রায় ৬০ লক্ষ অনুসারী রয়েছেন। বাহাই বিশ্বাস অনুসারে ধর্মীয় ইতিহাস স্বর্গীয় দূতদের ধারাবাহিক আগমণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। এইসব দূতদের প্রত্যেকে তাদের সময়কার মানুষদের সামর্থ্য এবং সময় অনুসারে একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই সকল স্বর্গীয় দূতদের মাঝে আছেন ইব্রাহিম, গৌতম বুদ্ধ, যীশু, মুহাম্মাদ এবং আরও অন্যান্যরা। সেই সাথে খুব সাম্প্রতিককালে বাব ও বাহাউল্লাহ। বাহাই ধর্ম মতে এসকল দূতগণ প্রত্যেকেই তাদের পরবর্তী দূত আসার ব্যাপারে এবং তাদেরকে অনুসরণ করতে বলে গেছেন। বাহাউল্লার জীবন ও শিক্ষার মাধ্যমে দূতগণের এই ধারা এবং পূববর্তী ধর্মগ্রন্থ গুলোর অঙ্গীকার সম্পূর্ণ হয়েছে। মানবতা সমষ্টিগত বিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে ধরা হয়েছে এবং বৈশ্বিক মাপকাঠিতে সার্বিকভাবে শান্তি, সুবিচার ও ঐক্য প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে বর্তমান সময়ের প্রয়োজনীয়তা।বাহাই শব্দটি একটি বিশেষণ হিসেবে বাহাই বিশ্বাস বা ধর্মকে নির্দেশ করতে বা বাহাউল্লার অনুসারীদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এটি হয়েছে আরবি বাহা থেকে, যার অর্থ মহিমা বা উজ্জলদীপ্তি। ধর্মটিকে নির্দেশ করতে পূর্বে বাহাইজম বা বাহাইবাদ পরিভাষাটি ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে ধর্মটির সঠিক নাম বাহাই বিশ্বাস।

বিশ্বের সব থেকে দামি ১৬টি উপকরণ (শেষ পর্ব)


পূর্বের পর্বঃ বিশ্বের সব থেকে দামি ১৬টি উপকরণ (১ম পর্ব)

বিশ্বের সব থেকে দামি উপকরণের নাম কি? এই প্রশ্ন করার সাথে সাথেই নিশ্চয়ই ভাবছেন সোনা বা হীরা!! তাই না?? কিন্তু না; এগুলা মোটেও বিশ্বের সব থেকে দামি উপকরণ নয়। বরং এর থেকেও দামি উপকরণ আছে এই পৃথিবীর বুকে। আর আজ আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিব সেই সব উপকরণ গুলির সাথে। তবে পরিচয় করাব সব থেকে দামি ১৬টি উপকরণের সাথে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।


০৮) LSD: ৩,০০০ মার্কিন ডলার প্রতি গ্রামঃ
এটি মূলত চিত্তপ্রভাবকারী চেতনানাশক পদার্থ যা খুবই দামি। সেমি-সিন্থেটিক এই ড্রাগটি তৈরি করতে নানা ধরনের প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যাওয়া লাগে উৎপাদনকারীকে। আর এই কারনেই এর দাম এত বেশি।

প্রাচীণ মিশর ও ফারাওদের রাজত্ব (২য় পর্ব)


পূর্বের পর্বঃ প্রাচীণ মিশর ও ফারাওদের রাজত্ব (১ম পর্ব)


আদি রাজবংশীয় যুগঃ
প্রাচীন সুমেরিয় আক্কাদিয় এবং প্রাচীন এলামিয় সভ্যতার প্রায় সমসাময়িক ছিল এইযুগ। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে মিশরীয় পুরোহিত মানেথো তার সময় পর্যন্ত মিশরের ফারাওদের ত্রিশটি রাজবংশে ভাগ করেন যা এখনো স্বীকৃত। তিনি তার ইতিহাস সূচনা করেন মেনি নামের একজন রাজাকে দিয়ে যার ব্যাপারে বিশ্বাস করা হত যে তিনি উচ্চ এবং নিম্ন মিশরকে প্রায় ৩১০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে একত্রিত করেন। তবে মেনির ব্যাপারে সমসাময়িক কোন রেকর্ড পাওয়া যায় না। অনেক পন্ডিত মেনিকে প্রকৃতপক্ষে ফারাও নারমার মনে করেন। আদি রাজবংশীয় যুগে প্রথম ফারাওরা মেমফিসে রাজধানী স্থাপন করে নিম্ন মিশরের উপর তাদের নিয়ন্ত্রন বিস্তার করেন। তার ফলে তাদের পক্ষে উর্বর নীল বদ্বীপের শ্রমশক্তি এবং কৃষিশক্তির এবং একই সাথে লেভান্টের বাণিজ্যপথগুলির উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। তাদের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা এবং ধনসম্পদের পরিচয় পাওয়া যায় তাদের বিশদ মাসতাবা সমাধি ও আবিদোসের সমাধিমন্দির গুলিতে যেখানে ফারাওদের মৃত্যুর পর তাদের অর্চনা করা হত। এইসকল ফারাওদের তৈরী রাজতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান যা ভূমি শ্রম ও সম্পদের উপর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার টিকে থাকা এবং বিকাশে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

প্রাচীণ মিশর ও ফারাওদের রাজত্ব (১ম পর্ব)



মিশরে নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল খ্রীস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে। নীল নদকে কেন্দ্র করে মিশরের এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বলে গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস মিশরকে বলেছেন নীল নদের দান। ৫০০০ থেকে ৩২০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সময়ের মিশরকে প্রাক রাজবংশীয় যুগ বলা হয়। সে সময় মিশর কতগুলো ছোট ছোট নগর রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল। সেগুলোকে বলা হয় 'নোম'। ৩২০০ খ্রীষ্টপুর্বাব্দে মেনেস নামের এক রাজা সমগ্র মিশরকে একত্রিত করে একটি নগর রাষ্ট্র গড়ে তোলেন। দক্ষিন মিশরের মেস্ফিস হয় এর রাজধানী। এভাবেই মিশরে রাজবংশের সূচনা হয়েছিল। আর ফারাও হলো গ্রিক রোমান কর্তৃক বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত প্রাচীন মিশরীয় রাজবংশের রাজাদের প্রচলিত উপাধি। প্রাচীন মিশরের নতুন রাজ্যের সময় ফেরাউনরা ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক নেতা ছিল। তখন বড় বাড়ি বলতে রাজাদের বাড়িকে বোঝানো হত কিন্তু মিশরীয় ইতিহাসের গতিপথের সাথে সাথে তা হারাতে বসে ছিল এমনকি রাজা এর জন্য ঐতিহ্যবাহী মিশরীয় শব্দের পরস্পরিক পরিবর্তনে মধ্যে প্রকাশ করা হয়েছিল। যদিও মিশরের শাসকরা সাধারণত পুরুষ ছিল। ফেরাউন শব্দটা বিরলভাবে মহিলা শাসকদের হ্মেত্রেও ব্যবহার করা হত। ফেরাউনরা বিশ্বাস করত যে দেবতা হরুসের সাথে জীবনের দেহযুক্ত। তারা নিজেদেরকে সূর্যের বংশধর মনে করত। নিজেদেরকে দেবতা বলে মনে করায় তারা বংশের বাইরে কাউকে বিবাহ করত না। ফলে ভাইবোনেদের মধ্যেই বিবাহ সম্পন্ন হত। ফেরাউনরা মৃত্যুর পরও জীবন আছে বলে বিশ্বাস করত। তাই তাদের মৃত্যুর পর পিরামিড বানিয়ে তার নিচে সমাধিকক্ষে এদের দৈনন্দিন জীবনের ভোগ বাসনার সমস্ত সরঞ্জাম রক্ষিত করত। মৃতদেহকে পচন থেকে বাঁচাবার জন্য তারা দেহকে মমি বানিয়ে রাখত এবং স্বর্ণালঙ্কারে মুড়ে সমাধিকক্ষের সবাধারে রাখা হত।